বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, অপরাধের জন্য কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের শান্তি এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে জনগণের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষিত হয়। তিনি বলেন, প্রতিশোধ বা হিংসা নয়, বরং আইনের সঠিক বাস্তবায়নই দেশের স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি। সোমবার সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় এক বিস্তারিত পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন আইন ও বিচারমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান।
চিফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও দীর্ঘকাল অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তবে তিনি কখনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায্যতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার ধরন, গুরুত্ব ও প্রভাব অনুযায়ী অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এইভাবে মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মধ্যে আইন ও শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করানো।
তিনি আরও জানান, অতীতে অনেক মানুষ তাদের স্বজন হারিয়েও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাবা, ভাই বা বোনের মৃত্যুর বিচার অনেকের জন্য দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার বিষয় হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনা দূর করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।
আইন সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা স্বাগতম জানাচ্ছে। আইন ও নীতিমালার কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য, যেখানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অবদান প্রশংসনীয়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মুলার, ইউএনএইচসিএইচআর এর মানবাধিকার কর্মকর্তা ইফতেখার সৈয়দ আলী, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় হেড অব অফিস লইস বারবার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দয়ার, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিংসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

