আজ রোববার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমন মন্তব্য করেন। সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনার মধ্যে তিনি এই বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের আয়োজন এই সভায়, বলেছেন, যদি গণঅধিকার বাস্তবায়ন না হয়, তবে এই সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। তবে সাংবিধানিক সংশোধনী ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিরোধী দল এই সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ওয়াকআউট করেছে। আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে কল্যাণকর বিষয়গুলো গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু তারা আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে Juli করার জন্য কেউ একা দায়ী নয়, বরং জুলাইয়ের চেতনা দিয়ে যারা ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি বলছি—বেশিদিন চালানো যাবে না। যারা Juli এর অপব্যবহার করে রাজনৈতিক সংগঠনে দুর্বৃত্তি চালাচ্ছে, তাদের জন্য আমার উপদেশ, এই চেতনা বিক্রি করে বেশি দিন রাজনীতি চালানো সম্ভব নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তের মত পুরনো রাজনৈৎক সম্পর্ক রেখে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেখা করার কোনও মানে নেই। যারা এমপি-মন্ত্রী বা উপদেষ্টা হওয়ার জন্য Juli এ অপব্যবহার করেছেন, তাদের এখনই উচিত নতুন বন্দোবস্তের অঙ্গীকার গুলিকে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। পুরোনো ধারায় না থেকে নতুন দৃষ্টি ও আদর্শ নিয়ে রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘Juli এর চেতনা ব্যবহার করে একটি দল গঠন করে যারা ৪৭ এর চেতনার কথা বলে, তাদের সাথে দেখা হলে সমস্যা তৈরি হয়। ৪৭ সালে তারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল না, এখন আবার বলছে “আমরা ৪৭-এ যেতে চাই”? আসলে তারা ৪৭ বা ৭১ এর সময়েও আসলে এই জনগণের পক্ষে ছিল না। এখন সময় এসেছে সত্যের সামনে দাঁড়ানোর, জনগণের স্বার্থে কাজ করার। নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা যতই ৪৭ বা ৭১ এর নাম ব্যবহার করুক, সত্য উন্মোচন হয়ে গেছে।”
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা যদি নির্বাসনে না থাকতাম, তাহলে সংগঠিতভাবে আন্দোলন সফল করে আনাটা কঠিন হতো। যারা নেতা বা কর্মকর্তা ছিলেন, তারা ঘরে থাকতে পারেননি বা কারাগারে ছিলেন। যারা মাঠে লড়াই করেছেন, তারা সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর আমি বা অন্যরা নীতির মাধ্যমে যুদ্ধের সুরক্ষা দিচ্ছি। যুদ্ধ মাঠে সংঘটিত হয়, কিন্তু এর জন্য নিয়ম-কানুন ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমরা সেই কাজগুলো করি।নিজেকে কৃতিত্ব দাবি করি না, কারণ সত্যিকার কাজই পার্থক্য করে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন দেখেছি আবু সাঈদ শহীদ হয়েছেন, তখন আমি নিশ্চিত হয়েছি এই জাতির মুক্তি আসন্ন। যে দেশের ছাত্ররা বুকের ওপর গুলি মানে ও রক্তে দিচ্ছে মুক্তির জন্য, সেই দেশের মানুষ আর রুখতে পারে না। তাঁদের আত্মত্যাগই আমাদের মুক্তির মূল সুরক্ষা।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, যিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্বৈরশাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অভ্যুত্থান এগিয়ে এসেছে। সব দল-মত ও ধর্মের মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, সবাই এক হয়ে উঠেছেন জনতার শক্তিতে। এটি হচ্ছে July এর মূল শক্তি। একাত্তরে কোন দলের ভূমিকা কী ছিল এবং চব্বিশে দলের অবদান কী ছিল—এগুলো সাধারণ মানুষ জানে এবং আগামী প্রজন্মও সেভাবে বুঝতে পারবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মহাসচিব শাহেদুল আজম।

