দেশের কোনও গ্রামে যেন চিকিৎসার অভাবে কেউ প্রাণ হারানোর ঘটনা না ঘটে, একইসঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মিলতে না পেরে জীবন হারায় সে ধরনের দুঃখজনক পরিস্থিতির প্রতিই গুরুত্ব দিয়ে গভীর সামাজিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ জুবাইদা রহমান। তিনি জানান, আগামী বাংলাদেশের জন্য আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষই দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা পাবে। যেন কোনও রোগাক্রান্ত গ্রামবাসী বা অন্তঃসত্ত্বা মা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে জীবন হারাতে না হয়, একইসঙ্গে নবজাতকের আর মাতৃসেবা বিলম্বে না হয়। আমাদের চাওয়া, বিশ্বের নারী ও শিশুর জন্য অনুকরণীয় একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যা বাংলাদেশের গৌরবের বিষয় হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজ অডিটোরিয়ামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের জন্য আয়োজিত সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ জুবাইদা রহমান এ কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের কাজ শুধু পেশা নয়, মানবতার সেবায় নিজেকে উৎস্বর্গ করা। তার বেশিরভাগ শক্তি মানবিকতার মধ্যেই নিহিত, যার দ্বারা অসুস্থ মানুষকে সেবা দেওয়া হয় এবং সুস্থ করে তোলার মাধ্যমে প্রকৃত জীবনের লক্ষ্য অর্জিত হয়।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের যে মেধা ও জ্ঞান অর্জন করেছেন, তা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য যাবার সুযোগ থাকছে, সেগুলো থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের সেবা বলেও উপযুক্ত পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যবিষয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ডাঃ জুবাইদা রহমান বলেন, দেশে প্রতি হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা এখনও যথাযথ নয়। অধিকাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে অবস্থান করলেও গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সেবা থেকে বঞ্চিত হন, ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রাণহানি ঘটে। তিনি বলেন, শিক্ষা জীবনে থেকেই মানুষ যদি দেশসেবা ও মানবিক মূল্যবোধের জ্ঞান অর্জন করে, তাহলে ভবিষ্যতে এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব। নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের হাতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরিবর্তন আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনার শুরুতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শ্রেষ্ঠত্ব ও সাংস্কৃতিক আগ্রহের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সংস্কৃতি একজন মানুষকে পরিপূর্ণ করে তোলে এবং মানবসভ্যতার মূল ভিত্তিই হলো সংস্কৃতি।
অতিথিদের সাথে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তির আগমুহুর্তে ডাঃ জুবাইদা রহমান বলেন, রেড ক্রিসেন্টের সকল সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই উদ্যোগ ও সচেতনতাই আমাদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও সুস্থ বাংলাদেশ গঠনে।

