বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবেনা—এই প্রত্যাশায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনের পরে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে তারা সবাই নেওয়া হবে বিচারপ্রক্রিয়ায়। This process will be transparent, neutral, and trustworthy, following the proper legal procedures। সরকার মনে করে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অপরাধের সব দিক থেকে বিচারের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই দিনটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হাজারো মানুষ গুম, অপহরণ এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ নির্যাতন, জুলুম বা মিথ্যা মামলায় বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র জুলাই ও আগস্ট মাসে গৃহযুদ্ধের জন্য শহীদ হয়েছেন অনেকে, নারীরা ও শিশুরা শহীদ হয়েছেন। সেই সময়ে আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী এছাড়াও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই আন্দোলনের শহীদদের কাউকেই ভোলা যাবে না। হতাহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানকে রোখার জন্য ফ্যাসিস্ট চক্র গুলি চালিয়ে জনগণকে হত্যা করেছিল, যা সভ্যতার জগতে বিরল একটি বর্বরতা।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, অপহরণকে স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছিল, যা বিগত দেড় দশকের বেশির ভাগ দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা চলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নতুন স্মৃতি জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ঐতিহাসিক সম্পদ হয়ে উঠবে, যেখানে তারা তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানবে, আর ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, সাহস, আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার স্বর্গীয় চিত্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি কেবল ২০২৪ সালের নির্মম ঘটনার স্মারকই নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের সত্যের প্রতি অটুট থাকাটা অপরিহার্য। অসম্পূর্ণ বাPurposefully বাড়ানো কোনও বয়ান ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করে ও বিভাজন সৃষ্টি করে। তাই, সব সত্যতা নিশ্চিত করে তথ্য উপস্থাপন জরুরি। স্মৃতিচিহ্নসমূহ বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় উপস্থাপিত হবে, যাতে বিশ্বজনীনভাবে এটি উপলব্ধি করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের জন্য সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে— থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়া—সহ বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন। সরকারি ব্যয়ভার থেকে অন্তত ১৩ হাজারের বেশি আহত ব্যক্তিকে অর্থনৈতিক সহায়তা ও মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও, সরকার শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ৩১ দফা লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, সেইসঙ্গে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য বিশেষ কমিটি কাজ করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, ও নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এর ফলে দেশ আবারও সংকটের মুখে পড়তে পারে। তিনি সমস্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে এই বিষয়গুলো গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানান।
সর্বশেষে তিনি বলেন, এই স্মৃতি জাদুঘর তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক শুভকামনা ও ধন্যবাদ জানাই। সেনাবাহিনী, গবেষক, শিল্পী ও সংগ্রাহকদের অবদানও প্রশংসা করেন। তিনি হতাহত ও শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

