দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শুরু হবে ২২ অগাস্ট থেকে, যেখানে প্রথম দফার টিকা প্রদান করা হবে। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফার টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। এই টিকা সকল বয়সের একজন একটি বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে প্রদান করা হবে, তবে গর্ভবতী নারীরা এই কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই অনুষ্ঠানে বলেন, আগে কলেরার প্রকোপে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হতো। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মতো এই উদ্যোগেও সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এই কলেরার টিকাদান সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে। এই ডেটার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এলাকার পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও এই কর্মসূচি চালানো হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অতীতে কলেরা দেশে ব্যাপক ক্ষতি করত। এখন তো নিয়ন্ত্রণে হলেও নতুন প্রাদুর্ভাবের জন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনির মতে, পুরান ঢাকাসহ অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে সফলভাবে কলেরার টিকাদান সম্পন্ন করার প্রত্যয় প্রকাশ করেন।
এই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বি’র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

