দুদুতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচার সংক্রান্ত তিনটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে। এসব মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই মামলাগুলো অনুমোদিত হয়, যেখানে শিগগিরই চট্টগ্রামের দুদক কার্যালয়ে আরও এগিয়ে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ investigation শুরু হয় দুদক, সিআইডি ও এনবিআর এর সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের টাস্কফোর্সের মাধ্যমে, যারা বর্তমানে এই ব্যাপারে কাজ করছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্তের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ৩০টি মামলার মাধ্যমে এই দুর্নীতির সত্যতা প্রকাশিত হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, সাবেক এই মন্ত্রী ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন কাগজের প্রতিষ্ঠান ইমিনেন্ট ট্রেডার্স, ভিশন ট্রেডিং, রিলায়েবল ট্রেডিং, প্রোগ্রেসিভ ট্রেডিং, ক্রিসেন্ট ট্রেডার্স এবং মডেল ট্রেডিংয়ের নামে মোট ১২৯ কোটি টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে ইমিনেন্ট ট্রেডার্সের জন্য ২০ কোটি, ভিশন ট্রেডিংয়ের জন্য ২৫ কোটি, রিলায়েবল ট্রেডিংয়ের জন্য ১৫ কোটি, প্রোগ্রেসিভ ট্রেডিংয়ের জন্য ২৩ কোটি, ক্রিসেন্ট ট্রেডার্সের জন্য ২৫ কোটি, ও মডেল ট্রেডিংয়ের জন্য ২১ কোটি টাকা সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অতঃপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এই বিষয়ে ৬টি আলাদা মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় তারা এই মামলার আসামি হিসেবে অর্থের মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানসহ বহু ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করেছেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের অর্থের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর আরও ৫২ কোটি টাকা এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন লিমিটেড, ৫৫ কোটি টাকা আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক এইচ এম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ কোটি ওয়েল মার্ট লিমিটেড, ৪১ কোটি ৭৫ লাখ সাইফ পাওয়াটেক ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসির কাছে, এবং ৬০ কোটি আইকনএক্স সার্ভিসের কাছে থেকে নেওয়া হয়। এই সব অনিয়মের মাধ্যমে মোট ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ ও অবৈধ অর্থের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে তারা। এ ঘটনায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা জড়িত বলে জানা গেছে।
এছাড়াও, চকবাজার, পোর্ট, পাহাড়তলী ও বহদ্দারহাট শাখা থেকে পৃথকভাবে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে আরো সাতটি মামলা রুজু হয়েছে ২০২৫ সালে। এসব মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামিরা অন্তর্ভুক্ত—সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তা, রুকসানা জামান চৌধুরী ও আরও বহু ব্যাংক কর্মকর্তারা।
এই ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করছে উচ্চ পর্যায়ের টিম, যারা দুর্নীতির পরিমাণ ও টাকার উৎস অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে, এবং প্রয়োজনীয় আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতার জন্য।

