আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে একটি পদযাত্রা আয়োজন করে। এই পদযাত্রার শেষ পর্যায়ে তারা সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্পিকারকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুমের শিকার সংগ্রামী জনতা, মুক্তিযোদ্ধা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্মরণে আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের গুমের বিরুদ্ধে জারি করা অর্ডিন্যান্সটি বাতিল করে গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকেই দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গুমের এই অর্ডিন্যান্সটি এখনও বাতিল না হলে এ ধরনের অপকর্ম চলতেই থাকবে। যারা গুমের জন্য দায়ী, তাদের তদন্তের দায়িত্ব সরকারের হাতে থাকা অস্বাভাবিক, কারণ এরা গুমের জন্য দায়ী।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন বলেন, ২৪ মার্চের গণঅভ্যুত্থানে জনগণ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, বাংলাদেশে গুম ও খুনের রাজত্ব আর চলবে না। ২০১৭ সালে গুম-খুন রোধে মানবাধিকার সংরক্ষণে যা চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেটিকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছে এবং কৌশলে একটি কমিটি গঠনের চেষ্ট করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদের মতো গুম-খুন চালাতে চাইছে।
স্পিকারকে স্মারকলিপি জমা দিয়ে উপস্থিতরা আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, আমরা আশা নিয়ে স্পিকারের কাছে গিয়েছিলাম। তাঁরা আমাদের সব পয়েন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। হাসিনুর রহমান আরও বলেন, এই আইন সংশোধন করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্ত্রীও প্রমাণ করতে পারবেন না যে, তার স্বামীকে গুম করা হয়েছে। এই আইন আমরা চাই না। তিনি সবাইকে আগামী ৫ তারিখের লংমার্চসহ অন্যান্য কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন শহীদ জাবের ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. শরিফুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা।
পদযাত্রার পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মানব কন্ঠের সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ অন্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিলাল হোসাইন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডাঃ ফখরুদ্দিন মানিক ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।

